জানালা/ অ্যালবার্ট অশোক
জানালা থেকে একটা রাস্তা সোজা চলে গেছে
অনেক দূরে ধুসর দিগন্তে
হাত পা মেলে দাঁড়াতে পারিনা
তাই সকাল সন্ধ্যে এই জানালায়,
জানালা আমার আয়না।
গরমের দিনে যখন পুড়তে থাকি আগুনে
বন্ধ করে দিই ক্ষণিক এই জানালার দু’পাট
তখন আরো কষ্ট হয়, মনে হয় পুড়াটাই ভালো।
রাতভর কখনো বৃষ্টি নামে, আকাশে অন্ধকার
কোন ফুলের কথা কিংবা পরীদের কথা
আমার তখন মনে আসেনা, তারাগুলিও দেখিনা।
অঝোড়ে শ্রাবণ বইবার পর আমার মনে হয়
আগামি কাল সকালে এক থালা লাল সূর্য উঠবে
প্রত্যাশায় থাকি–
কী ভারী সুন্দর সকাল ফুলেদের সাথে ফুটবে
আমি স্বর্গের স্বপ্ন বুনতে থাকি আঁজলা ভরে চোখে।
জানালাটা আমার বড় সুখদুঃখের চৌকাঠ
কখনো যন্ত্রনায় রাতপাখি চেঁচায় দিনে যার অস্ত্বিত্ব নেই
মনেহয় কোন ভূজঙ্গ মগ্ন চেতনায় বাড়ি ফিরছে
আমি জানালাটার পাশে বসি, শরীর শিরশির করে
ভূজঙ্গটা কোথায় যেন হাওয়া হয়ে যায়, কর্পূরের মত।
লাগোয়া অপুদের বাড়ির টিভিটা সারাদিন চেঁচায়
খবর থেকে আরম্ভ করে হরেক রকম চ্যানেল চলে
তাদের ভাল লাগে আমার তো ভাবনার যন্ত্রনা হয়
মগ্ন থাকতে পারিনা, জানালাটা তখন কিছুক্ষণ রাখি বন্ধ।
সকাল সন্ধ্যে এইপথ জানালা থেকে অনেকদূর গেছে
হাতবাড়িয়ে ছুঁতে চাই ধূসর দিগন্তকে, এতদুর হাত যায়না
দেখা যায়, চোখ যায়, মন যায়
হাতের চেয়ে চোখ লম্বা, মন যে তার চেয়েও বেশী।
তবু এতদেখার মধ্যে নিজেকে খুঁজি, তাকে এখানে দেখিনা
আয়নার মতো এই জানালায় বসে আমাকে দেখতে পাইনা।
এত লোকের মাঝে আমিওতো একজন সহযাত্রী সবার
সাথে নিজেকে খুঁজে পাইনা।
অ্যালবার্ট অশোক, সম্পর্ক-৯৩৩০৮৫৮৫৩৬
Advertisement