যোগাযোগবন্ধের গল্প

11 11 2011

যোগাযোগবন্ধের গল্প

একটা ছাগল দাঁড়িয়ে থাকে রোজ
দাপাদাপি করে বেজায় উল্লাসে
ঐ তিনকোনা যোগাযোগবন্ধের উপর
সারা আকাশে চাঁদখানা তখন শুয়ে থাকে।

শীতল চমৎকার দেশ, সুখের উড়োখই।
সমাজের নক্ষত্ররা এখানে গহীনরাতে
গান গেয়ে ভোরের ট্রেনে বাড়ি ফিরে যায়।
কুকুরের মত গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে পুলিশও আসে
ঐ তিনকোনা যোগাযোগবন্ধের উপর
ছাগলগুলির মত দাপাদাপি করে তারাও উর্দিগায়ে
ছাগলটা তখন নিরাপদ জায়গায় লুকিয়ে থাকে।

আমার বহুদিনের স্বপ্ন ছিল ঐ ছাগলটা সরিয়ে
তিনদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেব।
যেমন সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ফৌজেরা বসে থাকে
তেমনি আগলে রাখব সেতুটা নিরাপদ বেস্টনিতে।

এসব কথা ভাবছি চানঘরে চারদেওয়ালে ঘেরা
দাবদাহের পর প্রথমবৃস্টির সোঁদাগন্ধ ধুলামাটির বুকে
ছাপিয়ে যায় আমার হাতভরে উঠে শিউলি, বকুল
আমি নর্দমায় ছেড়ে দিই রাখার মত স্থানাভাবে।

এইঘর বসতি, এই কাগজ কলম, উন্মাসিক মন
সবই যেন জাল পেতে আছে যোগাযোগবন্ধটার দিকে
ছাগলটাকে ঘৃণা দিয়ে ঐ ত্রিভুজে দখলদারির পালা
কেবলই বদলে বদলে যায় আধখানা চাঁদ সাক্ষী আছে।

অ্যালবার্ট অশোক/ পয়লা নভেঃ ২০১১





অসুখ

15 10 2011

অসুখ/ অ্যালবার্ট অশোক

প্রতিযোগিতায় আমি যাবোনা। সাধনায় আঁকা ছবি
হেরো পার্টির মত আনাচে কানাচে ঘুরব।
যা আমি দিতে পারিনি তোকে কখনো
কোথাও যদি তুই পাস তা নিয়ে নে
বেঁচে বর্তে থাক। আমার শুভেচ্ছা রইলো।

আমাদের অসুখের শেষ নেই
এই শহরে স্বপ্নেও রোগ সংক্রমিত হচ্ছে।
ভালবাসার মত মারাত্মক রোগ।
চাই টাকা, বাড়িগাড়ি অশেষ নিরাপত্তা।

সুবোধের ছবির অফিস এখন অনেক বড়
কত লোকজন। পড়ন্ত বেলায় তার সাদা দাড়িতে
দুজন রমণীর নিকষ কালো অন্ধকার চাই।
আকাড়া দেওয়ালে ভালুক গা ঘষবে।
অসুখ কিছু নেই তাতে, সুখ আছে।

শিল্পপতিরা মধ্যাহ্নভোজেই বিছানা পাতে
বারীন মিত্তিরের অফিসে আমি কত দেখেছি।
ডেকেছে যখন যাবি, ঘুমুতে বললে ঘুমুবি
তোর দরকার টাকা, ওর দরকার শরীর।
এই অসুখে যারা পড়ে তারা বড়ো সুখী
যারা না পড়ে গল্পে শুনে তারা সত্যি দুখী।

১৩ অক্টোবর





শব্দ

15 10 2011

শব্দ

অন্তহীন শব্দ জ্বালা শব্দ ভেঙে খান খান

শব্দবিহীন স্তব্দ বাক বুকের ভিতর দিচ্ছে টান।

এমনতো শব্দ ছিলোনা শব্দ ছিল গুঢ় ব্রহ্ম

শব্দ এলো কানের কুহরে সদ্য প্রেমে শব্দ ‘ম’ ‘ম’।

আকাশে মেঘ ছিল শব্দ কালো মেয়ে। বড় ঢং

ঝড়ঝরিয়ে নামল যখন শব্দ তখন বড় রং।

ঐ রঙের আঁকা ছবি বলতে গেলে অনেক প্রহর

শব্দ আমার প্রেম হলো জীবন হল ঢেড় প্রখর।

১৩ অক্টোবর





পিছলে পড়ছি মাটি মাখা পায়ে

30 08 2011

পিছলে পড়ছি মাটি মাখা পায়ে /অ্যালবার্ট অশোক

অনেকগুলি সিঁড়ি।
ঐ উঁচু উঁচু বাড়িগুলিতে অনেক সিঁড়ি থাকে।
আমি সেই সিঁড়ি বাইতে গিয়ে পিছলে পড়ছি
উপরে উঠার ক্ষমতা আমার নেই।

যেই কবিতাটা লিখেছিলাম
অনেক বড় ও লম্বা করে
সম্পাদকেরা বলে দিয়েছে
ওটা কবিতা হয়নি। এত লোকের কথা
কেউ কি কবিতায় লেখে?ওদের প্রশ্ন।
তাই শব্দগুলি ভেঙ্গে দিচ্ছি।
অক্ষরগুলি চুন, সিমেন্ট, সুরকির মত
গুড়ো গুড়ো হয়ে ঝড়ে পড়ছে মাটিতে।
তার সাথে আমিও পিছলে পড়ছি মাটিতে।

এত ঠাটবাট, এত জেল্লা, কুবেরের ছায়া
গাড়ি করে লোকে উপরে উঠে, থাকে
বিলাস করে, মদ-মেয়ের রাস উৎসব করে!

ওরা কী কাজ করে যে উপরে থাকতে পারে?
ওরা কি কখনো কবিতা লেখে?

অনেকদিন চেষ্টা করেছি সিঁড়ি ভাঙ্গতে
আমি শুধু পেরেছি জল কাঁদা মাটি ঘাঁটতে
কাঁদাপায়ে সিঁড়ি ভাংগতে গিয়ে
বার বার পিছলে পড়ছি।

মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারছিনা
আর তাই উপরে উঠতে পারছিনা।
বার বার পিছলে পড়ছি।
২য় আগস্ট ২০১১





কোথায় যাবো?

30 08 2011

কোথায় যাবো?/অ্যালবার্ট অশোক

কোথায় যাবো?
এই লোকগুলি গুটি সাজিয়ে
দাবা খেলতে বসেছে।
যত নিরীহ ভাবছ তত নির্মল ওরা নয়।

ওরা রাজাকে ঈর্ষা করে!
ওরা রাজকোষ লুটপাট করতে চায়
ওরা কিছু সাদাসিধে মানুষকে ধনুক বানায়
তারপর তীর ছুঁড়তে থাকে রাজাকে লক্ষ্য করে।

এই লোকালয় কখনো জঙ্গলের চাইতেও ভয়ঙ্কর
আড়ালে আবডালে উৎপেতে সুযোগের অপেক্ষায়
কিছু শিকারী হায়েনা, শৃগাল ও কুত্তার দল।
তাই ক্রমান্বয়ে গুণ হতে থাকে দুঃখভার।

রাজা, মানে বিশাল, তুলনাহীন
রাজা রুপবান, গুনবান, বীর্যবান
সময় কখনো তারও খারাপ যায়।
নাহলে -
একটা দুটো বোড়ে, অতি সাধারণ
হঠাৎই লাফিয়ে উঠে হুমকী দেয়?

রাজা বিস্ময়ে দেখে আর ভাবে
সময়ের কী অমোঘ খেলা!
এত যুদ্ধ নয়, চোরাগুপ্তা খেলা, আক্রমন।
কোথায় যাবে?
বা আমি যদি রাজা হতাম, ভাবতাম-
কোথায় যাবো?

রক্তে এখন বাঁচামরার পালাগান
দুখঃভার অসহ্য, অসমর্থ
মানুষের মুখ বা মুখে কত মুখোশ!
সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে ভাবছি
কোথায় যাবো?
২য় আগস্ট ২০১১

 





জানালা

30 08 2011

জানালা/ অ্যালবার্ট অশোক


জানালা থেকে একটা রাস্তা সোজা চলে গেছে

অনেক দূরে ধুসর দিগন্তে

হাত পা মেলে দাঁড়াতে পারিনা

তাই সকাল সন্ধ্যে এই জানালায়,

জানালা আমার আয়না।

 

 

গরমের দিনে যখন পুড়তে থাকি আগুনে

বন্ধ করে দিই ক্ষণিক এই জানালার দু’পাট

তখন আরো কষ্ট হয়, মনে হয় পুড়াটাই ভালো।

 

 

রাতভর কখনো বৃষ্টি নামে, আকাশে অন্ধকার

কোন ফুলের কথা কিংবা পরীদের কথা

আমার তখন মনে আসেনা, তারাগুলিও দেখিনা।

 

 

অঝোড়ে শ্রাবণ বইবার পর আমার মনে হয়

আগামি কাল সকালে এক থালা লাল সূর্য উঠবে

প্রত্যাশায় থাকি–

কী ভারী সুন্দর সকাল ফুলেদের সাথে ফুটবে

আমি স্বর্গের স্বপ্ন বুনতে থাকি আঁজলা ভরে চোখে।

 

 

জানালাটা আমার বড় সুখদুঃখের চৌকাঠ

কখনো যন্ত্রনায় রাতপাখি চেঁচায় দিনে যার অস্ত্বিত্ব নেই

মনেহয় কোন ভূজঙ্গ মগ্ন চেতনায় বাড়ি ফিরছে

আমি জানালাটার পাশে বসি, শরীর শিরশির করে

ভূজঙ্গটা কোথায় যেন হাওয়া হয়ে যায়, কর্পূরের মত।

 

 

লাগোয়া অপুদের বাড়ির টিভিটা সারাদিন চেঁচায়

খবর থেকে আরম্ভ করে হরেক রকম চ্যানেল চলে

তাদের ভাল লাগে আমার তো ভাবনার যন্ত্রনা হয়

মগ্ন থাকতে পারিনা, জানালাটা তখন কিছুক্ষণ রাখি বন্ধ।

 

 

সকাল সন্ধ্যে এইপথ জানালা থেকে অনেকদূর গেছে

হাতবাড়িয়ে ছুঁতে চাই ধূসর দিগন্তকে, এতদুর হাত যায়না

দেখা যায়, চোখ যায়, মন যায়

হাতের চেয়ে চোখ লম্বা, মন যে তার চেয়েও বেশী।

 

 

তবু এতদেখার মধ্যে নিজেকে খুঁজি, তাকে এখানে দেখিনা

আয়নার মতো এই জানালায় বসে আমাকে দেখতে পাইনা।

এত লোকের মাঝে আমিওতো একজন সহযাত্রী সবার

সাথে নিজেকে খুঁজে পাইনা।

অ্যালবার্ট অশোক,  সম্পর্ক-৯৩৩০৮৫৮৫৩৬





ঝুলন্ত বারান্দায় ঝুলে আছি/

30 08 2011

ঝুলন্ত বারান্দায় ঝুলে আছি/ অ্যালবার্ট অশোক

২৮ শে আগস্ট ২০১১

নীচে সবকিছু উপর থেকে দেখা যায়

উপর থেকে নামবনা।

ঝুকে পড়েছি ঝুলন্ত বারান্দা থেকে

ভিন্ন মানুষের সাথে ভিন্ন সম্পর্ক।

 

 

অপ্রয়োজনীয় মনে হলে

ফটক থেকেই তাড়িয়ে দেব

অ্যাকোয়াগার্ড, স্টেইনলেস বাসনকোসন

ফ্রিজ,টিভি, বা কোন ইন্সুরেন্স

কেউ ফিরি করতে আসলে

রাখবনা, উপর থেকেই দেখতে পাব

ওসব আমার দরকার নেই।

 

 

দুপুর বেলায় ক্যুরিয়ার সার্ভিসের লোকটা আসে

কখনো ডাকবাহকরা চিঠির ব্যাগ নিয়ে

তখন নীচে দরোজা খুলে হাসি মুখে দাড়াতেই হয়।

 

 

কিন্তু সে আসবে, যার প্রত্যাশায় আছি —

পায়ের তলায় প্রতীক্ষা, সময় কাটেনা

মাথায় ক্লান্তিহীন সদাপ্রহরা–

তাকে নীচে উপরে কোথাও দেখতে পাইনা।

 

 

গ্রহ, নক্ষত্র জুড়ে ব্রম্মান্ডের কোনায় কোনায়

তাঁকে খুঁজি, লুকোচুরি খেলছে সে

তার সাথে আমার এ কেমন সম্পর্ক

যাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য

ঝুলন্ত বারান্দায় ঝুলে আছি।

অ্যালবার্ট অশোক,  সম্পর্ক-৯৩৩০৮৫৮৫৩৬





My Black Bride

30 08 2011

My Black Bride/ Albert ashok/29aug11

Here is the white space
My black bride wants to dance.
Deep sea in the blue
Abyss,  coloured animals swim.
I struggle, jostle among crowds
In this subcity, life is hard.
Desperate to see
A fairy in her flight
Hope, to reach  heaven
In this pursuit.
Life, I believe in this birth
Hell and death
Live in you.
My black bride dances
Under rainbows colour
Little whitespace
Holds her photo.





Love

30 08 2011

Love

 

To Emie, (in our 2nd anniversary of meeting)

 

Everyday,through ups and downs

we did not mistake

falling apart.

 

Through the years and months

we had left sweet memories

we had from the start.

 

Through the coming years

we will be waiting

heart to heart.

 

We dream and hope

love is great, shall bind us

together and never depart.

 

Love will lead us

like a guiding star

where life finds a meaning and an art.

.





when words get wings

30 08 2011

when words get wings / Albert Ashok

 

when words get wings

crazy ideas get metaphor

 

I jump over the deep ocean

which I dreamt to swim across

 

something very heavy

packed, shoots past like missiles

 

No, it did not hit any city

But I wonder the world it was

 

words are the weapon

blooms in desert like orchid flower

 

The words run, chase

I fall apart, my soul bleeds.

 

when words get wings

Heaven opens its doors to man.








Follow

Get every new post delivered to your Inbox.